আমার শ্বাশুরী মা রক্ষণজারভেটিভ মানুষ। শনিবার মঙ্গলবার মানেন। কোন শুভ কাজই শনি-মঙ্গলবারে করেন না। বেলা-অবেলাও মানেন। সন্ধ্যা হলে সব জায়গায় পা দেন না। তেনারা (জ্বীনেরা) নাকি নামাজ পড়েন। এরকম হাজারও নিয়ম তিনি মেনে চলেন।

সেই মানুষটার সর্ব কনিষ্ঠ কন্যা প্রকাশান্তরে যাহার হাতে আমার যত্ন-আত্তির দায়ভার তুলে দেয়া হয়েছে, সে যখন ঘর আলো করে পৃথিবীতে ল্যান্ড করলো, তার নাম রাখা হলো মিথিলা পারভীন অভি। বড় তিন বোনের নামের সাথে মিল রেখে: সেলিমা পারভিন শম্পা, শামিমা পারভিন শুভ্রা, শাকিলা পারভিন সুমি ধারায় নতুন নাম যোগ হলো।
কিন্তু বিধি ঠিক করে রেখেছেন এই সিলসিলা তিনি রাখবেন না। তাই কোথা থেকে এক ভাগিনা এসে উদয় হলো, এসে বললো মামি মিথিলা তো হিন্দুদের এক দেবীর নাম।
আর যায় কোথায়, আমার রক্ষণজারভেটিভ শ্বাশুরী হায় হায় করিয়া উঠিলো। নতুন করিয়া আকিকা করা হইলো এবং প্রকাশান্তরে আমার বউয়ের নাম নতুন করিয়া রাখা হইলো শারমিন আক্তার বাবুনি।
গল্পটি এই পর্যন্ত থামিয়া থাকিলে আমার তেমন কোন আপত্তিবিশেষ ছিলো না।
 
সবচে’ বড় বোন, যাকে আমরা সকলে বড়াপু বলে ডাকি তার বিয়ে হলো। বছর দুয়ের মাথায় মাইশা এলো তার ঘরে। ক্রমে সে পিচ্চি কথা বলতে শিখলো। এবং তাকে পরিবারের সবার নাম মুখস্থ করানো শুরু করা হলো।
এখানেই বিশেষ দু:খের বিষয়।
সে সবার নামই ঠিক করে বলতে পারে। কিন্তু যখনই তাকে বলা হয় – এটা তোমার বাবুনি আন্টি।
সে বলে ওঠে বান্টি। 
আবার বলা হয় – বল বাবুনি আন্টি
সে বলে ওঠে বান্টি।  
এবং সে যখন বড় হইয়া উঠিলো বান্টি ডাকটিই অব্যাহত রাখিলো। কেউ কিছু মাথা ঘামাইলো না। 
 
তৎপরবর্তীতে ভাগিনা এবং ভাগিনী ল্যান্ড করিলো অনেক, যত বোন তত জোড়া, এবং বান্টি নামটি সেইসব ইঁচড়ে পাকা কাহারো চোখ এড়াইলো না। নামটা তাহারা লুফিয়া নিলো এবং দেখা গেল সব পিচ্চিগুলাই তাহাকে বান্টি নামে ডাকিতেছে।
ঘটনা এই পর্যন্ত হইলেও আমার কিছু আপত্তিবিশেষ ছিলো না।
 
কন্যাটিকে আমি বিবাহ করিলাম। আমি জানিতাম বাবুনি নামের কন্যাটিকে আমি বিবাহ করিতেছি। কিয়ৎকাল পরে জানিলাম ভাগ্নে-ভাগ্নী সবাই তাকে বান্টি বলে ডাকে। বিষয়টা মানিয়া লইলাম।
বিবাহের কিছুদিন পর। আমি রুমে বসিয়া আছি। বউ বেলকোনিতে কি যেন করিতেছে। 
দেখি শ্বশুর মশাই ড্রইং হইতে ডাকিতেছে: বান্টি………. এ বান্টি……… শোন তো মা…………..
এ কি রে বাবা! আমি আকাশ হইতে পরিলাম। বান্টি মানে তো বাবুনি আন্টি। তবে শ্বশুর মশাই এ নামে ডাকে কিঁউ।
কয়দিন যেতে না যেতেই আবিষ্কার করলাম দুই-চার জন বাদে পরিবারের সবাই তাকে বান্টি ডাকে।
বাপ, মা, ভাগ্নে, ভাগ্নী, দুলাভাই, বোন সবারই সে বান্টি।
আমি তাহাকে নিয়া একটা ছড়াই লিখিলা ফেলিলাম:
“বান্টি…
হোল ফ্যামিলির আন্টি…”
কিন্তু এতো মূল্যবান সাহিত্যটুকুন আবৃত্তি করিয়া বিশেষ সুবিধা করিতে পারি না। হাতের কাছে যাহাই পাওয়া যায় তাহাই আমার উপর নিক্ষিপ্ত হয়। এবং আমি পালাই 🙂
Facebook Comments
Share: